Sunday, 26 July 2015

টমেটো টমটম

আজকে ইচ্ছেহেঁসেলের রান্নাঘরে যে রান্নাটি হতে চলেছে সেটা আমার মা-র স্পেশাল রেসিপি। আমি তার নাম দিয়েছি টমেটো টমটম। মা-কে কখনও বাজার থেকে কিনে আনা টমেটো সস ব্যবহার করতে দেখিনি। বাড়িতেই খুব সহজে বানিয়ে ফেলত এই টমেটো টমটম আর এটা যে বাজারে পাওয়া যেকোন নামীদামী টমেটো সসকে স্বাদগন্ধে হারাতে পারে সে গ্যারান্টি নিশ্চিত।

কোন খাবারের সবচেয়ে বড় ব্যাপার হল তার স্বাদ। আজকের ভেজালে ভরা শাকশব্জীর যুগে সবসময়েই পদের স্বাদ বাড়ানোর জন্য নির্ভর করতে হয় খুব মূল্যবান একটা ফলের ওপর যার নাম টমেটো। আমিষ হোক বা নিরামিষ যেকোন পদের স্বাদে চটকা আনতে টমেটোর প্রয়োজনীয়তা অবশ্যম্ভাবী।

কিন্তু টমেটোর যা দাম তাকে হেঁশেলে ঠাঁই দেওয়া মুশকিল। তাই শীতকালের বাজার থেকে সস্তায় কেনা টমেটোকে সারা বছর ব্যবহারের উপযোগী করে রাখা যায় তবে কেমন হয়?
তাই আজ ইচ্ছেহেঁশেলের ভালোবাসার আঁচে সাধস্বপ্নের কড়াইতে আশার খুন্তি দিয়ে তৈরী হচ্ছে আমার মা-র স্পেশাল টমেটো টমটম।

টুকটাক যা লাগবেঃ  

i) টমেটো (১ কেজি),
ii) চিনি (২০০ গ্রাম),
iii )নুন (১ চিমটে),
iv) সাদা ভিনিগার (১ কাপ),
v) তেঁতুলের পাল্প। (২০০ গ্রাম তেঁতুল জলে ভিজিয়ে তার পাল্প বের করলে যতটা হয়),
vi) কাশ্মীরি লঙ্কার গুঁড়ো (২ চামচ)।

রান্না শুরুঃ 

গোটা টমেটো ধুয়ে পরিষ্কার করে প্রেসার কুকারে সেদ্ধ করে জল ঝরিয়ে নিন। সেদ্ধ টমেটোগুলো মিক্সার গ্রাইন্ডারে পেস্ট করে ছাঁকনিতে ভালো করে ছেঁকে নিন যাতে সমস্ত ছিবড়ে বেরিয়ে গিয়ে একট মসৃণ মিশ্রণ পাওয়া যায়।

এবার মিশ্রণটাকে কড়ায় চাপিয়ে এর মধ্যে একে একে চিনি, নুন, তেঁতুলের পাল্প মেশান। ২০ মিনিট ফোটার পর এতে এক কাপ ভিনিগার মিশিয়ে আরো ১০ মিনিট ফোটান। নামানোর আগে কাশ্মীরি লঙ্কার গুঁড়ো দিয়ে নেড়ে আঁচ নিভিয়ে দিলেই টমেটো টমটম রেডি। সম্পূর্ণ ঠাণ্ডা হলে শিশিতে ভরে রেখে দিন।

যখন তখন যেমন খুশি আমিষ বা নিরামিষ পদের স্বাদ বাড়াতে অথবা যেকোন ভাজাভুজির সাথে স্বাদে চটকা লাগাতে কেনা সসের পরিবর্তে ব্যবহার করুন আপনার নিজের হাতের তৈরী টমেটো টমটম আর সবাইকে চমকে দিন।

বিঃ দ্রঃ 

i) টমেটো সেদ্ধ করার জন্য প্রেসার কুকারের সিটি ওঠার দরকার নেই, স্টীম বসে গেলেই (পাতি বাংলায় ফিসফিস করলে) আঁচ বন্ধ করে দিন।
ii) টমেটোর পেস্ট ছাঁকবার জন্য মশারির মত জাল ব্যবহার করুন। এতে মিশ্রণটা মসৃণ হবে।
iii) চিনি এবং তেঁতুলের পাল্পের ব্যবহার স্বাদমতন কমিয়ে বা বাড়িয়ে নিতে পারেন।
iv) মিশ্রণটা ফোটার সময় চারদিকে খুব ছিটকোয়, তাই একটা চাপা দিয়ে দেবেন।
v) কাশ্মীরি লঙ্কার গুঁড়ো ব্যবহার করলে টমেটো টমটমের রঙ টকটকে হয়। ইচ্ছে হলে নাও ব্যবহার করতে পারেন। সেক্ষেত্রে রঙ খুব একটা ভালো আসবে না।
vi) যে শিশিতে রাখবেন সেটা যেন একদম শুকনো এবং পরিষ্কার হয়। যদি কখনও চামচের ব্যবহার করতে হয় সেটিও যেন একদম পরিষ্কার আর শুকনো হয়।
vii) যারা বেশীদিনের জন্য বানিয়ে রাখতে চান তাঁরা খেয়াল রাখবেন, কিছুদিন যাওয়ার পর টমেটো টমটমের গন্ধের মধ্যে যদি কোন পরিবর্তন হয় তবে আবার একটু ফুটিয়ে নিয়ে ব্যবহার করুন।

3 comments:

  1. Darun laglo pore sri.try kore janabo kmn holo....all the best chalie ja.

    ReplyDelete
  2. This comment has been removed by a blog administrator.

    ReplyDelete
  3. Khub bhalo laglo jene j tor bhalolegeche....obossoi janas kmn laglo kheye...toder sobar motamot amar kache bhisonn important

    ReplyDelete

দিদার দুই রেসিপি

আমার মা সব কথাতেই বলে রান্নাটা নাকি জিনের ব্যাপার। জিন কি ভূত কি জিনি তা বলতে পারব না, তবে একথা সত্যি বটে আমার দিদা এবং মা-র হাতের রান্নার ...